প্রথমবার দার্জিলিং যাওয়ার আগে কয়েকটা কথা জেনে নিলে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সুবিধা হবে

Spread the love


দার্জিলিং। শুধুমাত্র বাঙালি আর অঞ্জন দত্তর কাছেই নয়, ব্রিটিশদের কাছেও ছিল এক অত্যন্ত প্রিয় স্থান। গরম কালে যখন কলকাতায় হাঁফিয়ে উঠতেন, তখন তাঁরা হাজির হোতেন দার্জিলিঙে। নিজেদের প্রয়োজনেই শহরটিকে সুন্দর করে সাজিয়েছিলেন তাঁরা। আজ সেই ব্রিটিশও নেই, ব্রিটিশ রাজত্বও নেই। কিন্তু হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শৈল শহর দার্জিলিং একই রকম থেকে গেছে। আর তার প্রতি পর্যটকদের ভালোবাসাটাও থেকে গেছে সেই একই রকম।
গরম পড়ে গেছে। কদিন পর সেটি আরও অসহ্য হয়ে দাঁড়াবে। আর তখন উত্তরের পাহাড় আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকতে শুরু করবে। তা এবার দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নাকি। তাহলে এই বেলা ট্রেন কিংবা বিমানের টিকিট কেটে ফেলুন। না হলে তা হাতছাড়া হবে। দার্জিলিঙের নিকটতম বিমান বন্দর হল শিলিগুড়ির বাগডোগরা। আর রেলে চেপে নামতে পারেন নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি রেলস্টেশন। (All photo credit: istock.com)

পাহাড়ি গাড়ি

বিমান বন্দর বা রেল স্টেশন থেকে দার্জিলিং যাওয়ার গাড়ি, শেয়ার জিপ কিংবা বাস পেয়ে যাবেন। পাহাড়ি রাস্তায় বেশি সাহস দেখিয়ে সেল্ফ ড্রাইভ না করাই ভালো। পাহাড়ে গাড়ি ভাড়া বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। দিনের আলো থাকতে থাকতে যদি দার্জিলিঙে রওনা দিতে পারেন তাহলে কম করে ৫০০০ টাকা খরচ হতে পারে। কিন্তু সূর্যাস্ত বা বিকেল ৫ টার পর যদি গাড়ি ভাড়া করেন তাহলে তার ভাড়া দেড় থেকে দুই গুণ বেশি হতে পারে। এমনকি বেড়ানোর জন্য প্রতিদিনে ট্যাক্সি ভাড়াটাও যথেষ্ট ব্যয়বহুল। গ্রপে বেড়ালে খরচটা একটু কম হয়।

দমবন্ধকর ট্র্যাফিক এবং পার্কিং

দমবন্ধকর ট্র্যাফিক এবং পার্কিং

মোটামুটি দার্জিলিং থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোনাদা পর্যন্ত রাস্তাঘাট বেশ ঠিকঠাক। কিন্তু যত দার্জিলিঙের দিকে এগোবেন রাস্তার পরিবর্তন দেখতে পাবেন। রাস্তায় বাম্পারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকবে। পাল্লা দিয়ে বাড়বে যানজট। নিজেদের গাড়িতে বেড়াতে গেলে হোটেলে পার্কিং লট আছে কিনা তা আগে নিশ্চিত করুন। না হলে বিপদ হতে পারে। এমনকি রাস্তায় জলের বোতল কেনার জন্য গাড়ি থামাতেও অসুবিধা হতে পারে।গা়ি পার্ক করার কোনও জায়গাই নেই।

টয় ট্রেন

টয় ট্রেন

কার্শিয়ঙের পর থেকেই টয় ট্রেনের ট্র্যাকগুলি দেখতে পাবেন। টয়ট্রেনের কারণে রাস্তা পারাপারে সাময়িকভাবে সমস্যা হয়। ট্রেন যাওয়ার সময় গাড়ি থামাতে হয়। আর ওই রাস্তায় ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হয়। ট্রেনের পথে সোনাদা, ঘুম, দার্জিলিং স্টেশনগুলি পড়বে। ২ ঘণ্টা রিটার্ন ট্রেন জার্নির জন্য খরচ হয় ১৩০০ টাকার মতো। দার্জিলিঙের টয়ট্রেন আমাদের দেশের এক ঐতিহ্যবাহী যান।

দেখে নিন

দেখে নিন

ম্যাল রোডে ঘোরাঘুরি, কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন তো করবেনই। দার্জিলিঙে গেলে ঘুরে নেবেন বাতাসিয়া লুপ এবং দালি মঠ। অবশ্য হোটোল কিংবা গাড়ির তরফেই বেড়ানোর জায়গাগুলির কথা বলে দেওয়া হবে। সেভাবেই প্যাকেজটি তৈরি করা হয়। তবে হ্যাঁ, জার্দিলিঙের গোরস্থান লাল কুঠি, সেন্ট জোসেফ স্কুল, নর্থ পয়েন্ট, সেন্ট পলস্ স্কুল, সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ যেন মিস করবেন না। তবে অনেকটা সময় কাটান চৌরাস্তা এবং বাজারে।

পছন্দের পেটপুজো

পছন্দের পেটপুজো

দার্জিলিঙে গিয়ে বিন্দাস পেটপুজো করুন। পাহাড়ি খাবারের স্বাদের কোনও তুলনা হয় না। তবে হ্যাঁ, রাতের খাবার কিনতে বেশি দেরি করবেন না। রাত ৯ টার পর আর সকাল ৮ টার আগে কোনও খাবারের দোকান খোলা পাবেন না। তবে হ্যাঁ, দার্জিলিঙের বিখ্যাত গ্লেনারি রেস্তোরাঁয় অবশ্যই একবার ঢুঁ দেবেন। আর হ্যাঁ, দার্জিলিঙে এক প্লেটে কিন্তু অনেকটা খাবার থাকেন তাই পরিমাণ বুঝে খাবার অর্দান দিন। যাতে খাবার নষ্ট না হয়।

চা পান

চা পান

দার্জিলিঙে গিয়ে অযথা কফি খেয়ে ট্রুরটা নষ্ট করবেন না। বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে দামী চা এখানেই পাওয়া যায়। তাই চা পান করুন। আর হ্যাঁ, দুধ দিয়ে নয়, দার্জিলিং চা পান করুন লিকার। চিনি দিন সামান্য। জল ভালো করে ফুটিয়ে, আগুন নেভানোর পর, অর্ধেক চামচ চা পাতা দিয়ে পাত্রটি ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষেণ রেখে দেওয়া হয। দুধ,চিনি, মধু কিংবা লেবু ছাড়াও সেই চায়ের স্বাদের কোনও তুলনা হয় না। দার্জিলিং চৌরাস্তার নাথমুলে খাঁটি দার্জিলিং চা পাবেন।



Source link