‘চাকর’ তো দূরের কথা, এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে এই ৫ আচরণও নিষিদ্ধ, না হলে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে!

Spread the love


ফ্লাইটে একজন এয়ার হোস্টেসের কাজ কী? তিনি যাত্রীকে বোর্ডিংয়ে সাহায্য করেন, যাত্রীর প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ করবেন, যাত্রীর প্রতিটি দ্বিধা দূর করবেন। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় যে, যাত্রীরা তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরিষেবা দাবি করছেন বা অভব্য আচরণ করছেন। এধরনের আচরণ হয়তো অন্য কোনও পেশায় নজরে আসে না।
এই যেমন সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একজন এয়ার হোস্টেস এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের যাত্রীর মধ্যে তর্কের ভিডিওটির কথাই ধরা যাক। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি কী ঘটেছিল তা নিয়ে না জেনে মন্তব্য করা মুশকিল। তবে এয়ার হোস্টেসের কথা শুনে মনে হচ্ছিল যে ওই যাত্রী এমন কিছু পরিষেবা দাবি করেছিলেন যা অপমানজনক বা অকাম্য। তবে হ্যাঁ, ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় প্রত্যেক যাত্রীকে কিছু নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। জেনে রাখতে হবে, বিমানে ভ্রমণের সময় এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রুদের সঙ্গে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

​বারবার সিট বদলানোর কথা বলা যায় না

অনেক সময় যাত্রীরা নিজেদের আসন বদলানোর জন্য ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হয়রান করে থাকেন। মানে খালি ফ্লাইটে যদি কেউ যদি পছন্দ অনুযায়ী সিট চান তো ঠিক আছে। কিন্তু যদি ফ্লাইট পূর্ণ থাকে এবং সেখানে কোনও যাত্রী নিজের আসন বারবার পরিবর্তনের জন্য এয়ার হোস্টেসকে বিরক্ত করতে শুরু করেন তাহলে তা নিয়ম বহির্ভূত। বড়জোর যাত্রী একবার এয়ার হোস্টেসকে অনুরোধ করতে পারেন। কিন্তু সিট পরিবর্তন সম্ভব না হলে এয়ার হোস্টেসের কিছু করার থাকে না। সেই অবস্থায় তাঁকে বারবার বিরক্ত করা অন্যায়।

​বেশি পানীয় চাইতে পারেন না

অনেক যাত্রী আছেন যাঁরা পর্যাপ্ত পানীয় থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের কাছে বারবার পানীয় আনার জন্য বলতে থাকেন। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভালো, বিমান সংস্থা যাত্রীদের পানীয় দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সীমা বেঁধে দেয়। এর চেয়ে বেশি পানীয় দেওয়া এয়ার হোস্টেসদের হাতে থাকে না। তাই এয়ারলাইনে ভ্রমণের আগে মনে রাখবেন এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে পানীয় নিয়ে অযথা তর্ক করবেন না।

​লুকিয়ে কোনও জিনিস ফ্লাইটে নিতে পারবেন না

অনেক সময় যাত্রীরা ফ্লাইটে এমন কিছু জিনিস নিয়ে আসেন যা, সিকিউরিটি চেকিংয়ের সময় নিতে বাধা দেওয়া হয়। সেখানে কোনোরকমে অনুমোদন জোগার করে অনেক যাত্রীই সেগুলি বিমানের ভিতর ব্যবহার করতে শুরু করে দেন। অন্যান্য যাত্রীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখে এয়ার হোস্টেস সেই সব জিনিস ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। অনেক যাত্রী এ নিয়ে তর্ক শুরু করে দেন। ফ্লাইটে ভ্রমণের সময়, এয়ার হোস্টেস কোনোকিছু যুক্তি সহ মানা করলে সেগুলি শুনুন। একেবারে উপেক্ষা করবেন না।

আরও পড়ুন: ফ্লাইটের টিকিটের দামের দিকেও নজর দিয়ে দেখুন, এয়ারলাইন্স অপ্রয়োজনীয় ভাবে চার্জ করছে না তো ?

​বড় ব্যাগ সামলাতে পারে না

যাত্রীর হাতের ব্যাগটি যথেষ্ট বড় হলেও আশা করবেন না যে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সেটি বহন করে দেবেন। তাঁরা যাত্রীকে গাইড করতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে এয়ার হোস্টেস আপনাকে সাহায্য করছেন না বলে যাত্রী কখনওই অভিযোগ জানাতে পারবেন না। যাত্রীকে নিজের ব্যাগ নিজেকেই বহন করতে হবে।

আরও পড়ুন: আপনি কি জানেন বিমান চালানোর সময় পাইলটরা ঘুমিয়ে পড়েন? অদ্ভুত নিয়ম জানলে অবাক হবেন আপনিও!

​আসন আপগ্রেডের জন্য জিজ্ঞাসা করবেন না

অনেক সময় ফ্লাইটে প্রথম শ্রেণির আসন খালি থাকে। সেক্ষেত্রে অনেক যাত্রী এয়ার হোস্টেসকে সেখানে বসার জন্য বা সিট আপগ্রেড করার অনুরোধ করতে থাকেন। বারবার এধরনের অনুরোধে এয়ার হোস্টেস বিরক্ত হন এবং যাত্রীকে সতর্কও করতে থাকেন। সেক্ষেত্রে যাত্রীকেও সমস্যাটা বুঝতে হবে। অবস্থা বিশেষে সিট পরিবর্তন সম্ভব হলেও সিট আপগ্রেড করা সম্ভব হয় না বললেই চলে।

আরও পড়ুন: এই বিশেষ শর্তগুলি মানলেই যাত্রীদের বিনামূল্যে খাবার দেবে রেল, নিয়মগুলি কি জানেন?

​ভ্রমণের সময় এয়ার হোস্টেসকে এই চারটি প্রশ্ন করবেন না

ভ্রমণের সময়, আপনি এয়ার হোস্টেসকে এই ধরনের প্রশ্ন করতে পারবেন না, অন্যথায় আপনাকে পরে অনুতপ্ত হতে হতে পারে।

  • ফ্লাইটে ভ্রমণের সময়, যাত্রী এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। তাঁদের বয়স, ঠিকানা, ফোন নম্বর, বেতন সক্রান্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন না।
  • কোন সময়ে ফ্লাইট পৌঁছাবে? বারবার এই প্রশ্ন তাঁদের বিরক্ত করতে পারে।
  • ফ্লাইটে সকলকে একই রকম খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে রোগীর জন্য আলাদা খাবার পাওয়া যায় না। এর জন্য এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে অযথা তর্ক করা যাবে না।
  • ধারালো কোনও বস্তু বা ফ্লাইটে অন্যদের ক্ষতি করতে পারে এমন সরঞ্জামের মতো জিনিস ব্যবহার করতে পারবেন না। এবং এয়ার হোস্টেসকে বারবার এ ব্যাপারে প্রশ্নও করতে পারবেন না।



Source link